
বিধানসভা ভোটে খারাপ ফলের পর রাজ্যের একাধিক পুরসভায় তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি বাড়ছে। বিভিন্ন জায়গায় দলীয় কাউন্সিলরদের গণ ইস্তফার ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ার মাঝেই সোমবার চারটি পুরসভা ও একটি পুরনিগমের জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে কাউন্সিলরদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “দলের সুখের সময় থাকবেন, দুঃখের সময় থাকবেন না, তা হতে পারে না। তবে যে যাওয়ার চলে যেতে পারেন।” এদিকে বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ থেকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ইস্তফার পর সেই দায়িত্ব দেওয়া হল প্রাক্তন বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায়কে।
সোমবার কালীঘাটের বাড়িতে দমদম, উত্তর দমদম, দক্ষিণ দমদম, বরানগর পুরসভা এবং বিধাননগর পুরনিগমের মেয়র, চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠকে বসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি দলীয় নেতাদের একজোট হয়ে পরিস্থিতির মোকাবিলা করার বার্তা দেন। পাশাপাশি যাঁরা দলে থাকতে চান না, তাঁদের চলে যাওয়ার পথ খোলা বলেও স্পষ্ট জানান। দল আবার ঘুরে দাঁড়াবে বলেও আশাবাদী তৃণমূল নেত্রী। এছাড়া আক্রান্ত দলীয় কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশও দেন তিনি।
আরও পড়ুন :: নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে অভয়ার মা! মমতাকে বিঁধে পোস্ট ফেসবুকে
দলের কর্মীদের আইনি সহায়তার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই কমিটিতে রয়েছেন মলয় ঘটক ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য-সহ একাধিক নেতা। সম্প্রতি দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সঞ্জয় দাসের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আবেদন জানান উপস্থিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে।
এদিন রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতির প্রতিবাদে কর্মসূচি করার অনুমতিও চান কয়েকজন কাউন্সিলর। সেই বিষয়ে মমতা বলেন, চাইলে প্রতিবাদ কর্মসূচি করা যেতে পারে। পাশাপাশি থানায় গিয়ে ডেপুটেশন দেওয়ার নির্দেশও দেন তিনি।
প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের একাধিক পুরসভায় রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তৃণমূল পরিচালিত বিভিন্ন পুরসভায় কাউন্সিলরদের ইস্তফা ও বোর্ড ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় চাপ বাড়ছে দলের উপর। কাঁচরাপাড়া, হালিশহর, ভাটপাড়া, গারুলিয়া ও উত্তর বারাকপুর-সহ একাধিক পুরসভায় ইতিমধ্যেই কাউন্সিলরদের গণ ইস্তফা সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতেই দলীয় নেতাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।



