রাজনীতিরাজ্য

‘মেদিনীপুরের ছেলে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় গর্বিত’, শুভেন্দুর প্রশংসায় মানস, বিঁধলেন শীর্ষ নেতৃত্বকেও

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

‘মেদিনীপুরের ছেলে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় গর্বিত’, শুভেন্দুর প্রশংসায় মানস, বিঁধলেন শীর্ষ নেতৃত্বকেও - West Bengal News 24

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। রাজ্যের একাধিক শক্তঘাঁটিতেও গেরুয়া শিবিরের উত্থান দলের অস্বস্তি বাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এবার দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হলেন রাজ্যের প্রাক্তনমন্ত্রী তথা তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা মানস ভুঁইয়া। পরাজয়ের দায় নিজের কাঁধে নিলেও দলের অন্দরের নানা ত্রুটির দিকেও ইঙ্গিত করেছেন তিনি। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসাও শোনা গেল তাঁর মুখে। মানস বলেন, ”শুভেন্দু মেদিনীপুরের সন্তান। ওকে বিলক্ষণ চিনি। মেদিনীপুরের একজন মানুষ হিসাবে শুভেন্দুর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় গর্ব অনুভব করছি।”

সোমবার সবংয়ের দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন মানস ভুঁইয়া। সেখানে তিনি স্পষ্ট জানান, রাজ্যজুড়ে দলের এই খারাপ ফলের জন্য কোনও একজনকে দায়ী করা ঠিক হবে না। যদিও সবংয়ে পরাজয়ের দায় তিনি নিজের কাঁধেই নিয়েছেন। তবে সংগঠনের ভিতরে কিছু সমস্যা ছিল বলেও মনে করছেন তিনি। যদিও এখনই বিষয়টিকে সরাসরি অন্তর্ঘাত বলতে নারাজ মানস। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, একসময় তাঁর ঘনিষ্ঠ অমল পান্ডার বিজেপি প্রার্থী হওয়ার পিছনে কলকাতার তৃণমূল ভবন থেকে শুরু করে ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার এক শীর্ষ নেতার ভূমিকা ছিল। তাঁর বক্তব্য, ”হারের জন্য আমিই দায়ী।” তবে একইসঙ্গে দলের একাংশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

আরও পড়ুন :: নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে অভয়ার মা! মমতাকে বিঁধে পোস্ট ফেসবুকে

অভিমানের সুরে প্রাক্তনমন্ত্রী আরও বলেন, ”২০১১ সালে রাজ্যে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সময় তৎকালীন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হিসেবে আমি কাঠবিড়ালির ভূমিকা পালন করেছিলাম। কিন্তু সেই কাজের স্বীকৃতি কেউ আজ পর্যন্ত দেয় নি। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কোনোদিন এই ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ একটি কথাও বলতে শোনা যায় নি।” উল্লেখ্য, ২০১১ সালে তৃণমূল-কংগ্রেস জোট গঠনের সময় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ছিলেন মানস ভুঁইয়া। সেই জোট তৈরিতে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলেই রাজনৈতিক মহলের মত। সেই আক্ষেপই এদিন প্রকাশ্যে আনেন তিনি।

অন্যদিকে, দলের একাংশ যখন এই বিপর্যয়ের জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করছে, তখন কার্যত তাঁর পাশেই দাঁড়ালেন মানস ভুঁইয়া। তিনি বলেন, “এই হারের দায় কারোর একার নয়। সাফল্য হলে আমার। আর ব্যর্থতা এলে দায় অন্যের। এই সংস্কৃতি থেকে মুক্তি চাই।” পাশাপাশি তাঁর মন্তব্য, ”এখন অনেকেই ওঁর ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছেন। অথচ একসময় এই নেতারাই ওঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য চাতক পাখির মতো উন্মুখ হয়ে বসে থাকত।”

এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উদ্দেশেও বার্তা দেন মানস ভুঁইয়া। তিনি বলেন, ”আপনি বাংলা ও মেদিনীপুরের মানুষের চোখের জল মোছান। শান্তি ফিরিয়ে আনুন। শুভেন্দুর সঙ্গে যোগাযোগ হলে অবশ্যই কথা বলব।”

উল্লেখযোগ্যভাবে, ১৯৮২ সাল থেকে টানা বিধায়ক ছিলেন মানস ভুঁইয়া। সবং দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। বাম আমলেও এই কেন্দ্র হাতছাড়া হয়নি তাঁর। কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবেই বারবার জয় পেয়েছিলেন তিনি। পরে ২০১৬ সালে তৃণমূলে যোগ দেন মানস। কিন্তু এবারের নির্বাচনে গেরুয়া ঝড়ে কার্যত ধরাশায়ী হয়েছেন এই বর্ষীয়ান নেতা।

আরও পড়ুন ::

Back to top button