ব্রিক্সের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সফরেরও আমন্ত্রণ তারেককে! হাসিনা ও হাদির প্রসঙ্গে দিল্লির অবস্থান কী?
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

শুধু ব্রিক্স সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য নয়, দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্যও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। মঙ্গলবার নয়াদিল্লির তরফে এই তথ্য জানানো হয়েছে। তবে তারেক কবে ভারতে আসবেন, কিংবা আদৌ সফর করবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনও তথ্য দেয়নি ভারত।
দিল্লিতে শেখ হাসিনার সাংবাদিক বৈঠককে ঘিরে নতুন করে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ব্রিক্স সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য আগেই তারেককে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত। বাংলাদেশের তরফেও সেই আমন্ত্রণ গ্রহণের কথা জানানো হয়েছে। যদিও তারেকের ভারত সফর নিয়ে এখনও কোনও স্পষ্ট বার্তা দেয়নি ঢাকা। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ‘প্রথম আলো’-র একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তারেকের ভারত সফরের সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই সোমবার ঢাকায় তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদী। পরদিন দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সেই বৈঠকের প্রসঙ্গ তোলেন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সবাল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বৈঠকে ভারত-বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রণধীর বলেন, “আমরা ব্রিকস আউটরিচ সেশনের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্যও (তারেককে) আমন্ত্রণ জানিয়েছি।”
আরও পড়ুন :: দেশে প্লাস্টিকের নোট! কেন্দ্র ও আরবিআই-এর মাস্টারস্ট্রোক, বদলে যাচ্ছে ১০ ও ২০ টাকার ভবিষ্যৎ?
‘প্রথম আলো’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারেক ও দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশি ছাত্রনেতা ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের প্রত্যর্পণের প্রসঙ্গও বৈঠকে উঠেছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এ দিন সেই দুই বিষয়েই ভারতের অবস্থান ফের স্পষ্ট করেন রণধীর জয়সবাল।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র জানান, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের আবেদন সংশ্লিষ্ট ‘প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী’ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের প্রত্যর্পণের বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত এবং সেই ঘটনায় তদন্ত এখনও চলছে বলেও জানান তিনি।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন তারেক রহমান। বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের সময়ই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় থেকেই ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ফের স্বাভাবিক ও শক্তিশালী করার উদ্যোগ শুরু হয়। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের মতো তারেকের সরকারও শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি অব্যাহত রেখেছে।
আরও পড়ুন :: বাংলাদেশ থেকে একের পর এক খুনের হুমকি! ভবানীভবনে ঋতব্রত
এরই মধ্যে দিল্লিতে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক সাংবাদিক বৈঠককে কেন্দ্র করে ফের ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ভারত শুরু থেকেই জানিয়ে আসছে, হাসিনার সাংবাদিক বৈঠকের সঙ্গে সরকারের কোনও যোগ নেই এবং ওই অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে ভারত সরকার একমত নয়।
তবে নয়াদিল্লির এই অবস্থান মেনে নেয়নি ঢাকা। বাংলাদেশের অভিযোগ, ভারতে অবস্থান করার সুযোগ নিয়ে শেখ হাসিনা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। ভারত সরকার যদি তাঁকে সেই সুযোগ দেয়, তাহলে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে বাংলাদেশকে নতুন করে ভাবতে হতে পারে বলেও বার্তা দিয়েছে ঢাকা।
এই টানাপড়েনের মধ্যেই সোমবার তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক হয়। আর তার পরদিনই ব্রিক্স সম্মেলনের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্যও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানোর কথা প্রকাশ্যে জানাল নয়াদিল্লি।



