অর্থনীতিজাতীয়

দেশে প্লাস্টিকের নোট! কেন্দ্র ও আরবিআই-এর মাস্টারস্ট্রোক, বদলে যাচ্ছে ১০ ও ২০ টাকার ভবিষ্যৎ?

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

দেশে প্লাস্টিকের নোট! কেন্দ্র ও আরবিআই-এর মাস্টারস্ট্রোক, বদলে যাচ্ছে ১০ ও ২০ টাকার ভবিষ্যৎ? - West Bengal News 24

ছেঁড়া, ফাটা কিংবা মলিন কাগজের নোটের বদলে এবার নতুন ধরনের নোট আসতে চলেছে দেশে। ১০ ও ২০ টাকার পলিমার বা প্লাস্টিকের নোট পরীক্ষামূলকভাবে বাজারে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। মঙ্গলবার সংসদে এই সংক্রান্ত প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ১০ টাকা ও ২০ টাকা মূল্যের ১০০ কোটি করে পলিমার নোট বাজারে ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। সেই প্রস্তাবেই অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্র। প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে এই নোট চালু করা হবে। পরীক্ষার ফল সন্তোষজনক হলে পরবর্তীতে নিয়মিতভাবে বাজারে এই নোট আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে পলিমার বা প্লাস্টিকের নোট চালুর বিষয়টি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই রিজার্ভ ব্যাঙ্কের বোর্ডে আলোচনা চলছিল। একাধিক পর্যায়ে আলোচনার পর সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়। মঙ্গলবার সংসদে সেই প্রস্তাবেই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ এই ইস্যুতে বলেন, “সরকারের তরফে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। বর্তমান কাগজের নোটের পাশাপাশি চালু থাকবে পলিমার নোট।” তবে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের বক্তব্য অনুযায়ী গোটা প্রক্রিয়াটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ফলে এই মুহূর্তে নতুন নোট তৈরির সম্ভাব্য খরচ নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন :: বাংলাদেশ থেকে একের পর এক খুনের হুমকি! ভবানীভবনে ঋতব্রত

পলিমার নোট চালুর পরিকল্পনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। গত ৫ আগস্ট বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ কাগজের নোটের তুলনায় পলিমার নোট অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী। বিশ্বের বেশ কিছু দেশে ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কোনও বড় সমস্যা ছাড়াই এই ধরনের নোট ব্যবহার করা হচ্ছে। আরবিআই গভর্নর বলেন, “নোট তৈরি জন্য বিশেষ পলিমারের টেন্ডার ডাকা হয়েছে ইতিমধ্যেই। এরপর পরীক্ষামূলকভাবে তা চালানো হবে এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত অনুমোদন নেওয়া হবে। যদি সমস্ত পরিকল্পনা নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী এগোয়, তবে আমাদের লক্ষ্য আগামী অর্থবর্ষের শুরুতেই এই নোটগুলি বাজারে ছাড়ার।”

সঞ্জয় মালহোত্রার বক্তব্য অনুযায়ী, পলিমার নোট চালুর পিছনে মূলত দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, এগুলি দীর্ঘ সময় ব্যবহার করা সম্ভব এবং সহজে নষ্ট হয় না। কাগজের নোটের তুলনায় পলিমার নোট প্রায় চার গুণ বেশি টেকসই। দ্বিতীয়ত, দীর্ঘস্থায়িত্বের কারণে দীর্ঘমেয়াদে নোট ছাপানোর খরচও কমতে পারে। ফলে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের উপর নোট তৈরির ব্যয়ের চাপ কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

পলিমার নোট মূলত প্লাস্টিকের মতো বিশেষ ধরনের কৃত্রিম উপাদান দিয়ে তৈরি হয়। এগুলি তৈরিতে ব্যবহার করা হয় শক্তিশালী ও নমনীয় প্লাস্টিক ফিল্ম। এর ফলে সাধারণ কাগজের নোটের তুলনায় এই নোট অনেক বেশি টেকসই হয় এবং সহজে ছিঁড়ে বা নষ্ট হয় না।

দেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত নোটগুলির মধ্যে ১০ ও ২০ টাকার নোট রয়েছে। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে এই দুই মূল্যের নোট দিয়েই পরীক্ষামূলকভাবে পলিমার নোট চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষামূলক প্রয়োগ সফল হলে ভবিষ্যতে আরও বেশি মূল্যমানের পলিমার নোট বাজারে আনার পরিকল্পনা করা হতে পারে।

আরও পড়ুন ::

Back to top button