রাজ্য

বাংলায় কি এবার বড় বিনিয়োগ? ‘স্পেন’ খোঁচায় সৌরভকে বিঁধে শিল্পায়নের নতুন পথ দেখালেন শমীক ভট্টাচার্য!

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

বাংলায় কি এবার বড় বিনিয়োগ? ‘স্পেন’ খোঁচায় সৌরভকে বিঁধে শিল্পায়নের নতুন পথ দেখালেন শমীক ভট্টাচার্য! - West Bengal News 24

পশ্চিমবঙ্গের শিল্পায়ন নিয়ে এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। বেঙ্গল ন্যাশনাল চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (BNCCI)-এর ১৩৯তম বার্ষিক সাধারণ সভায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে তিনি একাধারে যেমন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও ‘দাদা’ সৌরভ গাঙ্গুলিকে নিশানা করলেন, তেমনই শিল্পপতিদের দিলেন এক অভয়বার্তা। রাজ্যে লগ্নি টানতে বিজেপির দৃষ্টিভঙ্গি ঠিক কী, তা এদিন স্পষ্ট করে দেন তিনি।

এদিন শমীক ভট্টাচার্যের বক্তৃতায় উঠে আসে এক বিশেষ ক্রিকেটারের প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, “আমি একজনকে চিনতাম যিনি একসময় ‘স্টেপ আউট’ করে ওভার বাউন্ডারি মারতেন। কিন্তু এখন দেখছি তিনি বাউন্ডারির বাইরে দাঁড়িয়ে পপিন ক্রিজের দিকে বল ছুড়ছেন।” রাজনৈতিক মহলের মতে, শমীক এখানে নাম না করে ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলিকেই বিঁধেছেন।

উল্লেখ্য, গত বছর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্পেন সফরে তাঁর সঙ্গী হয়েছিলেন সৌরভ এবং সেখান থেকেই শালবনীতে একটি ইস্পাত কারখানা তৈরির ঘোষণা করেছিলেন তিনি। শমীকের কথায়, আধুনিক প্রজন্ম পশ্চিমবঙ্গে দাঁড়িয়েই বিনিয়োগ চায়, কিন্তু “স্পেন থেকে এসে কেউ যেন পশ্চিমবঙ্গে শিল্প না গড়ে”—এই মন্তব্যে সৌরভের সেই ঘোষণাকেই তিনি প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড় করালেন বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজ্যে বিনিয়োগের পরিবেশ নিয়ে শিল্পপতিদের আশ্বস্ত করেন শমীক। তাঁর প্রধান তিনটি বার্তা ছিল:

  • নির্ভয়ে বিনিয়োগ: শিল্পপতিরা যেন কোনো ভয় না পেয়ে বাংলায় টাকা ঢালেন।

  • পুলিশি সহযোগিতা: ব্যবসা বা শিল্পের কাজে কেউ বাধা দিলে সরাসরি পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

  • জমি নীতিতে বদল: শমীক ভট্টাচার্য ইঙ্গিত দেন যে, রাজ্য সরকার তার জমি নীতিতে বড়সড় পরিবর্তন আনতে চলেছে, যা শিল্পায়নের পথ প্রশস্ত করবে।

“বড় শিল্প আনতেই হবে। এছাড়া বাংলার আর কোনও ভবিষ্যৎ নেই।” — শমীক ভট্টাচার্য।

এদিন রাজ্যের শিল্প পরিস্থিতির এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন বিজেপি সাংসদ। তিনি দাবি করেন, বিগত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৬৩০০-র বেশি সংস্থা তাদের সদর দপ্তর বা হেড অফিস অন্য রাজ্যে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছে। মেধা ও পুঁজির এই বহির্গমন রুখতে বড় শিল্প আনা ছাড়া উপায় নেই বলে তিনি মনে করেন।

শিল্পের পাশাপাশি টলিউড তথা বিনোদন জগতের পরিস্থিতি নিয়েও সরব হন শমীক ভট্টাচার্য। গত সরকারের আমল থেকে চলে আসা টলিউডের কর্মসংস্কৃতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “শিল্পের মর্যাদা শিল্পীরাই দেবেন, অন্য কেউ নয়।” অর্থাৎ, শিল্পের ওপর রাজনৈতিক খবরদারি বন্ধ করার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দেন তিনি।

BNCCI-এর এই গুরুত্বপূর্ণ বার্ষিক সভায় শমীক ভট্টাচার্য ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন:

  1. অশোককুমার বণিক (সভাপতি, BNCCI)

  2. অমিত শাহ (সহ-সভাপতি)

  3. ঋত্বিক দাস (ডিরেক্টর ও চেয়ারম্যান—ফরেন ট্রেড, ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট স্ট্যান্ডিং কমিটি)

শমীক ভট্টাচার্যের এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধেই রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল শুরু হয়েছে। একদিকে যখন তিনি বড় বিনিয়োগের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন, অন্যদিকে সৌরভ গাঙ্গুলির মতো ব্যক্তিত্বকে নিশানা করে বিতর্কের পারদও চড়িয়েছেন কয়েক গুণ। এখন দেখার, বিজেপি নেতার এই ‘ইন্ডাস্ট্রি ফ্রেন্ডলি’ বার্তা আগামী দিনে বাংলায় কতটা বিনিয়োগ টানতে সফল হয়।

আরও পড়ুন ::

Back to top button