
ধর্মীয় কারণে পশুনিধনের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে বিজেপি সরকার। সেই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাই কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে বিতর্ক। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল চাপানউতোর। এরই মধ্যে সরকারের নির্দেশিকাকে কার্যত চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কুরবানি হবেই বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তথা বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। যদিও তাঁর মন্তব্যকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। উলটে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে বলেই দাবি করেছেন তিনি।
পশুনিধন ইস্যুতে হুমায়ুন কবীর বলেন, “আইনকে সম্মান করি। তবে কুরবানি হবেই। কোরানে যা লেখা আছে। তা হবেই। শুভেন্দু অধিকারীকে সরাসরি বলছি, আগুন নিয়ে খেলবেন না। তাতে আপনার নিজেরই বিপদ হবে। মুসলমান সমাজ কুরবানি নিয়ে কোনও সমঝোতা করবে না।” পাশাপাশি, রাস্তায় নমাজ পাঠ বন্ধের বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। হুমায়ুনের বক্তব্য, “ইদের নমাজ রেড রোডে হয়। আগামী দিনে না হলে আন্দোলন হবে। নমাজ পাঠের জন্য বড় কোনও জায়গা দেওয়া প্রয়োজন। জায়গার বন্দোবস্ত না হলে রাস্তা আটকে পুজোও না হওয়া উচিত।”
আরও পড়ুন :: ‘৫ মন্ত্রী নিয়ে এসেছি, রাস্তা বন্ধ হয়নি’, মমতাকে খোঁচা শুভেন্দুর, দুর্গাপুরে শিল্প ও উন্নয়নের আশ্বাস
অন্যদিকে, হুমায়ুনের এই মন্তব্যকে তেমন গুরুত্ব দিতে চাননি বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। তিনি বলেন, “বেআইনি কসাইখানা চলবে না। তবে যদি কেউ বলেন গোমাংস খাবেন তো খাবেন। গণতান্ত্রিক দেশে কারও গোমাংস খাওয়া বন্ধ করা যায় না।” রাস্তায় নমাজ প্রসঙ্গে হুমায়ুনের মন্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে শমীক আরও বলেন, “আকবর, বাবর, হুমায়ুনরা যে কাজ ৩০০-৪০০, ৫০০ বছর আগে বন্ধ করে দিয়েছিল। সে কাজ আবার হবে, আবার নতুন করে বাংলায় পুজো বন্ধ করে দেবে। বাংলার মানুষ ছেড়ে কথা বলবেন না। পাবলিক ছাড়বে না। খুব রেগে আছে। সব কিছু নিয়ন্ত্রণ রাজ্য সরকার করতে পারবে না। বিপদে পড়বে।”
এদিকে, পশুনিধন সংক্রান্ত মামলায় এদিন কলকাতা হাই কোর্টে সওয়াল করেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। মামলার শুনানিতে সব পক্ষের বক্তব্য শোনেন বিচারপতি। তবে এখনও পর্যন্ত এই মামলায় কোনও রায় ঘোষণা হয়নি।



