২২ বছরের খরা কাটল! চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের মুখে ঝামা ঘষে ISL চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল, অস্কারের ম্যাজিকে ইতিহাস লাল-হলুদের
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

২০০৩-০৪ মরশুমে শেষবার জাতীয় লিগের শিরোপা জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। তারপর কেটে গিয়েছে দীর্ঘ ২২ বছর। মাঝের সময়ে একাধিক ট্রফি এলেও জাতীয় লিগের খেতাব অধরাই থেকে গিয়েছিল লাল-হলুদের। সেই নিয়েই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানের সমর্থকদের কটাক্ষও সহ্য করতে হয়েছে বহুবার। আইলিগ থেকে ISL প্রতিযোগিতা বদলেছে, কিন্তু ভাগ্য বদলায়নি। তবে এ বারের ISL যেন শুরু থেকেই লেখা ছিল ইস্টবেঙ্গলের নামেই। শেষ ম্যাচে ইন্টার কাশীকে ২-১ গোলে হারিয়ে অবশেষে ISL ট্রফি নিজেদের ঘরে তুলল লাল-হলুদ শিবির।
এই সাফল্য শুধু একটি ট্রফি জয় নয়, বরং দীর্ঘদিনের সমস্ত সমালোচনা ও ব্যর্থতার জবাব। ISL-এ যোগ দেওয়ার পর যখন মোহনবাগান একের পর এক সাফল্য পেয়েছে, তখন ইস্টবেঙ্গলের ঝুলিতে ছিল কেবল সুপার কাপ। বারবার কোচ পরিবর্তন, স্পনসর বদল সবকিছুর পরেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসেনি।
আরও পড়ুন :: কুরবানি আটকালে আগুন জ্বলবে! শুভেন্দুকে চরম হুঁশিয়ারি হুমায়ুনের, পালটা দিলেন শমীক
অধিকাংশ মরশুমেই পয়েন্ট টেবলের নিচের দিকেই শেষ করতে হয়েছে লাল-হলুদকে। কখনও অষ্টম, কখনও নবম কিংবা দশম স্থানে শেষ হয়েছে অভিযান। তবে অস্কার ব্রুজ়োর আগমনের পর থেকেই বদলাতে শুরু করে ছবিটা। নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন ইস্টবেঙ্গল সমর্থকেরা।
অস্কারের আগে কার্লোস কুয়াদ্রাত দলকে সুপার কাপ এনে দিয়েছিলেন। আর অস্কার ব্রুজ়ো এসে বদলে দেন পুরো দলের মানসিকতা ও খেলার ধরন। এর আগে বাংলাদেশের বসুন্ধরা কিংসকে চ্যাম্পিয়ন করার অভিজ্ঞতা ছিল তাঁর ঝুলিতে। প্রথম বছরে মাঝপথে দায়িত্ব নিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, সেই পরিস্থিতিতে খুব বেশি কিছু করা সম্ভব নয়। তবে পুরো মরশুম হাতে পেয়েই নিজের পরিকল্পনা কার্যকর করেন তিনি। শুরু থেকেই ধারাবাহিক জয়, তাও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বড় ব্যবধানে। যদিও মরশুমের শুরুতে প্রাক্তন গোলকিপার কোচ সন্দীপ নন্দীর সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। সেই সময় সুপার কাপেও সাফল্য আসেনি। কিন্তু অস্কারের মূল লক্ষ্য ছিল ISL, আর শেষ পর্যন্ত সেই লক্ষ্যেই সফল হল ইস্টবেঙ্গল।



