সই জালিয়াতি মামলায় হাজিরা এড়ালেন অভিষেক, ফের কালীঘাটের বাড়িতে সিআইডি, চলল ভিডিওগ্রাফি
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

সই জালিয়াতি মামলার তদন্তে সোমবার ভবানী ভবনে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থার কাছে ১৫ দিনের সময় চেয়ে আবেদন করেন। এর মাঝেই ফের তাঁর কালীঘাটের বাসভবনে পৌঁছে যায় সিআইডির একটি দল। তদন্তের স্বার্থে গোটা বাড়ির ভিডিওগ্রাফিও করা হয় বলে জানা গিয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, মামলার তদন্তে কোনওরকম ফাঁক রাখা হচ্ছে না। সমস্ত প্রক্রিয়া নথিভুক্ত করতে ভিডিও রেকর্ডিং করা হয়েছে। পাশাপাশি ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের উদ্দেশে একটি নোটিসও দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল বিধায়কদের স্বাক্ষরে অসঙ্গতির অভিযোগ ওঠার পর বিধানসভার সচিবের তরফে এফআইআর দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে সিআইডি। একাধিক বিধায়ককে নোটিস পাঠানোর পাশাপাশি তলব করা হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও।
আরও পড়ুন :: কালীঘাটে মমতার বৈঠকে বিরাট ধস! ৮০ জনের বদলে হাজির মাত্র ২০, ক্ষোভে বৈঠক বাতিল তৃণমূল সুপ্রিমোর?
শনিবার নোটিস পাওয়ার পর সোনারপুরে এক মৃত দলীয় কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে বিক্ষোভের মুখে পড়েন অভিষেক। অভিযোগ, তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ও জুতো ছোড়া হয়, এমনকি ধস্তাধস্তি ও মারধরের ঘটনাও ঘটে। মাথায় হেলমেট থাকায় ইটের আঘাত থেকে রক্ষা পান তিনি। পরে দুটি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা হয়। বর্তমানে তিনি বাড়িতেই চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং একাধিক ওষুধ সেবন করছেন।
এই পরিস্থিতিতে ভবানী ভবনে হাজিরা দেওয়া সম্ভব নয় বলে সিআইডিকে জানান অভিষেক। আইনজীবীদের পরামর্শে সেই মর্মে চিঠিও পাঠানো হয়। এরপরই তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। প্রথমে কিছুক্ষণ বাইরে অপেক্ষা করার পর তাঁরা প্রয়োজনীয় তদন্তমূলক কাজ করেন এবং একটি নোটিসও দিয়ে আসেন বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে, বিধানসভার সই বিতর্ক ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর ক্রমশ বাড়ছে। সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা স্পিকারের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই বিধানসভার সচিবালয় হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ জানায়। পাশাপাশি পুলিশমন্ত্রী হিসেবে বিষয়টি জানার পর সিআইডিকে তদন্তভার দেওয়ার নির্দেশও তিনি দিয়েছেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ওই মন্তব্যের কিছুক্ষণের মধ্যেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় তৃণমূল। সেই আবহেই শনিবারের পর সোমবার ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছয় সিআইডির দল।



