বারাণসীতে চরম উত্তেজনা! রাহুল গান্ধী ও পাপ্পু যাদবের বিরুদ্ধে এফআইআর, কোন বড় অভিযোগে বিপাকে ‘ইন্ডিয়া’ জোট?
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

লোকসভার অন্দরে রামমন্দিরের অনুদান নিয়ে প্রতিবাদ সূচিত হতে না হতেই দেশজুড়ে তৈরি হলো এক বিরাট আইনি জলঘোলা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিজস্ব লোকসভা কেন্দ্র বারাণসীতেই কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)-সহ বিরোধী জোটের একাধিক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভাবাবেগে আঘাত এবং রামলালার ছবি অবমাননার মতো গুরুতর অভিযোগে বারাণসী থেকে শুরু করে দেশের একাধিক থানায় মামলা ঠোকা হয়েছে বিরোধী সাংসদদের বিরুদ্ধে।
বারাণসী থেকে দেশের নানা কোণে অভিযোগ: কী ঘটেছে ঠিক?
শুক্রবার সংসদ ভবন চত্বরে সমাজবাদী পার্টি এবং ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের সাংসদরা রামমন্দিরের অনুদান তছরুপের অভিযোগে এক অভিনব প্রতিবাদ কর্মসূচি গ্রহণ করেন। ‘মকরদ্বার’-এর সামনে একটি প্রতীকী দানপাত্র রেখে চলে “চাঁদা চোর, গদি ছোড়” স্লোগান।
কিন্তু বিতর্ক চড়তে শুরু করে যখন বিহারের পূর্ণিয়ার নির্দল সাংসদ পাপ্পু যাদব (Pappu Yadav) গেরুয়া পোশাক, কপালে তিলক ও গলায় রুদ্রাক্ষের মালা পরে ‘সাধু’র বেশে সেখানে হাজির হন। হাতে ছিল রামলালার একটি ছবি। অভিযোগ ওঠে, পথনাটিকার মতো চলা এই প্রতিবাদের সময়:
রাহুল গান্ধীর দেওয়া টাকা দানপাত্রে না ফেলে নিজের পকেটে পুরে নেন পাপ্পু যাদব।
প্রতিবাদের হট্টগোলে পাপ্পু যাদবের হাত থেকে রামলালার ছবিটি নিচে পড়ে যায় এবং তাঁর পায়ে লাগে।
জরুরি তথ্য: বারাণসীর সাধু-সন্ত ও আইনজীবীদের একটি দল যৌথভাবে লখনউ ও বারাণসী পুলিশের কাছে এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
কোন কোন ধারায় মামলা? কার কার নাম রয়েছে তালিকায়?
কাশী জোনের পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র একাধিক কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে:
ধারা ২৯৯: ইচ্ছাকৃত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত।
ধারা ৩০২: ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার উদ্দেশ্যে শব্দ বা অঙ্গভঙ্গি প্রয়োগ।
ধারা ৩(৫): যৌথভাবে অপরাধমূলক কাজ সংগঠিত করা।
এফআইআর-এ অভিযুক্ত নেতাদের তালিকা:
১. রাহুল গান্ধী (কংগ্রেস সাংসদ ও বিরোধী দলনেতা)
২. পাপ্পু যাদব (সাংসদ, পূর্ণিয়া)
৩. অবধেশ প্রসাদ (সাংসদ, ফৈজাবাদ/অযোধ্যা)
৪. ডিম্পল যাদব (সাংসদ, সমাজবাদী পার্টি)
৫. ধর্মেন্দ্র যাদব (সাংসদ, সমাজবাদী পার্টি)
দেশজুড়ে আইনি তৎপরতা: পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
শুধু বারাণসী নয়, উত্তরপ্রদেশ ও দেশের অন্যান্য রাজ্যের বিভিন্ন থানাতেও পরপর অভিযোগ জমা পড়ছে। সাধু-সন্ত সমাজের দাবি, রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য গেরুয়া পোশাক এবং প্রভু রামের ছবিকে অবমাননা করা অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং এটি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
বর্তমানে পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন প্রাপ্ত থেকে আসা সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আগে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে এখন তোলপাড় পরিস্থিতি।



