ভারতের দরজায় জঙ্গির ছায়া! লঞ্চপ্যাডে পাক জঙ্গিদের জড়ো হওয়ার দাবি বিএসএফের, দ্বিতীয় দফায় ‘সিঁদুর’ প্রস্তুত
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

ভারত-পাক নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে পাক জঙ্গি সংগঠনগুলি। গোয়েন্দা তথ্য বলছে, সীমান্তের ওপারে মোট ৬৯টি লঞ্চপ্যাড এখন প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে এবং সেখানে অন্তত ১২০ জন সশস্ত্র জঙ্গি অনুপ্রবেশের সুযোগের অপেক্ষায় লুকিয়ে বসে আছে। সোমবার কাশ্মীর সীমান্তে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিএসএফের আইজি অশোক যাদব। তিনি জানান, সম্ভাব্য জঙ্গি অনুপ্রবেশের লক্ষ্যে পাকিস্তানের ধারাবাহিক প্রস্তুতি নজর এড়ায়নি নিরাপত্তা বাহিনীর এবং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পরবর্তী ধাপ শুরু হতে পারে।
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় বিএসএফের আইজি জানান, “আমাদের জি ইউনিট এলওসি বরাবর ৬৯টি জঙ্গি ঘাঁটির উপর কড়া নজর রেখেছে। ওই অঞ্চলে ১২০ জন জঙ্গি ওঁত পেতে রয়েছে অনুপ্রবেশের জন্য। এছাড়া নিকটবর্তী জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবিরগুলিও আমাদের নজরে আছে।” তিনি আরও সতর্ক করে দেন, পাকিস্তান যদি সীমান্তে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে, তবে ভারত কোনওভাবেই তা বরদাস্ত করবে না এবং প্রয়োজনে অপারেশন সিঁদুর-এর দ্বিতীয় ধাপ শুরু হবে।
এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, চলতি বছরেই বিএসএফ ও সেনাবাহিনীর যৌথ নজরদারিতে চারটি অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করা হয়েছে এবং এতে মোট ৮ জন জঙ্গি মারা যায়। তাঁর দাবি, এটি ছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’-এরই সাফল্যের অন্যতম প্রমাণ।
অশোক যাদব আরও যোগ করেন, পহেলগাঁও হামলার জবাবে ৭ থেকে ১০ মে পর্যন্ত ভারতীয় সেনা ও বিএসএফ যৌথভাবে যে ‘অপারেশন সিন্দুর’ চালায়, তাতে পাকিস্তানের একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি ও লঞ্চপ্যাড ব্যাপক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। ভারতের আর্টিলারি রেঞ্জের আওতায় থাকা এলাকাগুলির ক্ষতির পর পাকিস্তান বাধ্য হয়ে বেশ কিছু লঞ্চপ্যাড পিছিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। তবে তাঁর কথায়, নজরদারিতে কোনও শৈথিল্য নেই প্রযুক্তি, ড্রোন, সেন্সর এবং নাইট ভিশন ব্যবস্থার সাহায্যে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।
মে মাসে হামলার সময়ে বিএসএফ ও সেনা বাহিনী পাকিস্তানি সেনা ঘাঁটি এবং একাধিক লঞ্চপ্যাডকে লক্ষ্য করে পাল্টা গুলিবর্ষণ করেছিল। সেই প্রসঙ্গে আধিকারিকদের বক্তব্য, “আমাদের আর্টিলারি রেজিমেন্ট এবং বিএসএফ ইউনিটগুলি পাকিস্তানি সেনাদের উপর জরাল আঘাত হানে, বেশ কয়েকটি সেনাঘাঁটি ও জঙ্গিদের লঞ্চ প্যাড ধ্বংস করা হয়।” কেন ওই সময় ৬৯টি লঞ্চপ্যাড পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়নি, এমন প্রশ্নে উত্তরে বিএসএফ কর্তা জানান, “ভৌগলিক অবস্থান এবং দূরত্বের কারণে একইসঙ্গে সমস্ত লঞ্চ প্যাডে নির্ভুলভাবে গুলি চালানো অসম্ভব ছিল। বহু জায়গায়, ফায়ারিং অ্যাঙ্গেলও ছিল না।”



