রোহিঙ্গাদের অধিকার বিতর্কে কড়া অবস্থান সুপ্রিম কোর্টের, আইনি মর্যাদা না হলে নেই কোনও সুবিধা
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

রোহিঙ্গা ইস্যুতে আরও একবার কঠোর অবস্থান নিল দেশের শীর্ষ আদালত। বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের দেশে রেখে সুবিধা করে দেওয়ার প্রশ্নে ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত স্পষ্ট জানাল, তাদের বৈধ পরিচয় বা আইনি মর্যাদা নির্ধারিত না হলে অধিকার বা সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা অর্থহীন। বিচারপতিরা মন্তব্য করেন, ‘অনুপ্রবেশকারীদের জন্য কি লাল কার্পেট পাতব?’—এই প্রশ্নে আদালতের অবস্থান পরিষ্কার।
ভারতে বসবাসকারী কিছু রোহিঙ্গা নাগরিক নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলে সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলা দায়ের হয়। মামলাকারীর দাবি, যদি রোহিঙ্গাদের দেশ ছাড়তে হয়, তবে সেই প্রক্রিয়া আইন অনুযায়ী হওয়া উচিত। তাঁদের অভিযোগ, গত মে মাসে দিল্লির পুলিশ কয়েকজন রোহিঙ্গাকে আটক করেছিল, তারপর থেকে তাদের আর কোনও খোঁজ নেই। সেই মামলার শুনানি চলছিল প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চে।
শুনানির শুরুতেই আদালত আবেদনকারী পক্ষকে একের পর এক প্রশ্ন করেন। বিচারপতি জানতে চান, “ভারত সরকার কি কখনও রোহিঙ্গাদের শরণার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে? যদি কেউ এখানে অবৈধভাবে প্রবেশ করে তাহলে তাঁদের এখানে রাখার জন্য আমাদের কি কোনও বাধ্যবাধকতা রয়েছে? যদি ওদের ভারতে থাকারই অধিকার না থাকে এবং তাঁরা অনুপ্রবেশকারী হয়, তাহলে সেই সব অনুপ্রবেশকারীকে স্বাগত জানানোর জন্য আমাদের লাল গালিচা বিছিয়ে দেওয়া উচিত?” এই পর্যায়ে আবেদনকারীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাঁরা রোহিঙ্গাদের শরণার্থী মর্যাদা দাবি করছেন না, বরং নির্বাসনের ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া পালনের দাবি করছেন।
এ সময় প্রধান বিচারপতি কঠোর ভাষায় বলেন, “প্রথমে, আপনি সুড়ঙ্গ খুঁড়ে বা বেড়া টপকে অবৈধভাবে ভারতে ঢুকলেন। তারপর আপনি বলছেন, এখন যেহেতু আমি এসেছি, ভারতীয় আইন আমার উপর প্রযোজ্য হওয়া উচিত, এবং আমার সন্তানদের জন্য খাদ্য, আশ্রয় এবং শিক্ষার ব্যবস্থা করা উচিত। আমরা কি এভাবে আইনি পরিধি বাড়াব?” তিনি আরও যোগ করেন, দেশের লক্ষ লক্ষ দুঃস্থ নাগরিক এখনও ন্যূনতম সুবিধা পান না, তাঁদের প্রয়োজনই এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। পাশাপাশি আদালত এটাও স্পষ্ট করে দেয় যে, অবৈধ প্রবেশ করলেও কোনও মানুষকে নির্যাতন করা যাবে না।
রোহিঙ্গা ও অন্যান্য অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া এই প্রথম নয়। এর আগেও সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছিল, ভারত আন্তর্জাতিক শরণার্থীদের স্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে না। এই দেশ কোনও ধর্মশালা নয়, বলেও মন্তব্য করেছিল আদালত। আগের একটি আবেদনের শুনানিতে বিচারপতিরা আরও বলেছিলেন, রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলে দেওয়ার গল্প একেবারে রূপকথার মতো শোনায়।



