‘প্রভাবশালী’ তত্ত্বে ২১ মে পর্যন্ত ইডি হেফাজতে সুজিত বসু, মিলল কোটি কোটি টাকার লেনদেনের হদিস
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুকে আপাতত ইডির হেফাজতেই থাকার নির্দেশ দিল আদালত। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে তাঁকে দীর্ঘক্ষণ জেরা করার পর একাধিক অসঙ্গতি ও তথ্য গোপনের অভিযোগ সামনে এসেছে বলে দাবি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার। সেই কারণেই তাঁকে নিজেদের হেফাজতে রেখে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রয়োজন রয়েছে বলে আদালতে জানায় ইডি। সোমবার গভীর রাতে ম্যারাথন জেরার পর সুজিত বসুকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার তাঁকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করা হলে বিচারক আগামী ২১ মে পর্যন্ত ইডি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে বেশ কিছুদিন ধরেই ইডির নজরে ছিলেন সুজিত বসু। সোমবার দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার সকালে শারীরিক পরীক্ষার জন্য তাঁকে বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে তাঁকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে হাজির করানো হয়। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করার আবেদন আগেই জানিয়েছিল ইডি। আদালতে তদন্তকারী সংস্থা সুজিত বসুর ১০ দিনের হেফাজত চেয়ে আবেদন করে।
আরও পড়ুন :: ভোট বিপর্যয়ের পরেই অ্যাকশন! আইটি সেলে বড় কোপ মমতার, দেবাংশু-উপাসনার হাতে নতুন দায়িত্ব!
এদিন আদালতে দুই পক্ষের মধ্যে বিস্তর সওয়াল-জবাব হয়। শুনানি শেষে বিচারক নির্দেশ দেন, আগামী ২১ মে পর্যন্ত ইডি হেফাজতেই থাকতে হবে সুজিত বসুকে। ফলে আগামী কয়েকদিন সিজিও কমপ্লেক্সেই তাঁকে রাখা হবে বলে সূত্রের খবর।
শুনানির সময় সুজিত বসুর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলে ইডি। তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগের পাশাপাশি তদন্তকারী সংস্থার দাবি, পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত অয়ন শীলের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল তথ্যে দেখা গিয়েছে, সুজিত বসু একাধিক চাকরিপ্রার্থীর নাম সুপারিশ করেছিলেন। সেই তালিকায় নিতাই দত্তের নামও উঠে এসেছে বলে দাবি ইডির। এছাড়াও সুজিত বসু ও তাঁর পরিবারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখে বিপুল অঙ্কের টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলেও আদালতে জানানো হয়। তদন্তকারীদের দাবি, সুজিত বসুর একটি রেস্তরাঁ করোনাকালে বন্ধ থাকা সত্ত্বেও সেখানে কোটি কোটি টাকার আয় দেখানো হয়েছে।
আরও পড়ুন :: মেসি কাণ্ডে তোলপাড় নবান্ন! তদন্তের ফাইল তলব ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথের, এবার কি টাকা ফেরত পাবেন দর্শকরা?
ইডির আইনজীবী এদিন আদালতে জানান, “সুজিত প্রভাবশালী ছিলেন। এখন উনি ছাড়া পেলে তদন্ত প্রভাবিত করতে পারেন। সাক্ষ্যপ্রমাণ নষ্ট করতেও পারেন। তাই তাঁকে হেফাজাতে চায় ইডি।”
অন্যদিকে, প্রাক্তন মন্ত্রীর আইনজীবী আদালতে প্রশ্ন তোলেন, যে সমস্ত নথির ভিত্তিতে সুজিত বসুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তার বেশিরভাগই ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের তথ্য মিললেও তার বৈধ ব্যাখ্যা মেলেনি বলেও আদালতে দাবি করেছেন ইডির আইনজীবী।



