নিশানায় কল্যাণ! শুভেন্দুর বৈঠকের পরেই বিস্ফোরণ, দলীয় পদ ছাড়লেন ক্ষুব্ধ কাকলি ঘোষ দস্তিদার
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে দলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar)। মঙ্গলবার কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তিনি। তার পরদিনই একাধিক ইস্যুতে দলের নেতৃত্বকে নিশানা করে সব পদ ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন বারাসতের সাংসদ।
ইতিমধ্যেই এই মর্মে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সির কাছে চিঠিও পাঠিয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সেই চিঠিতে নাম না করেই তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন তিনি। পাশাপাশি আর জি কর কাণ্ড, রেশন দুর্নীতি-সহ বিভিন্ন বিষয়েও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন সাংসদ। যদিও চিঠিতে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, দলের একজন সাধারণ কর্মী হিসেবেই কাজ চালিয়ে যাবেন।
আরও পড়ুন :: বৈদিক চিকিৎসায় জোর, স্বাস্থ্যদপ্তর থেকে পৃথক হচ্ছে আয়ুষ, জুনে একাধিক কর্মসূচির ঘোষণা শুভেন্দুর
সুব্রত বক্সিকে পাঠানো চিঠিতে কাকলি ঘোষ দস্তিদার লিখছেন, ‘অত্যন্ত দুঃখ এবং উদ্বেগের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমি অল ইন্ডিয়া তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন পদ-সহ দলের অন্যান্য সাংগঠনিকপদ, কমিটি ও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রার্থনা করছি।’ কেন তিনি পদ ছাড়ছেন, সেই ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে নাম না করে শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন তিনি।
চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘যে পদে থাকাকালীন মহিলা সাংসদের প্রতি অন্য একজন অশিক্ষিত, অভদ্র দলীয় সাংসদের অশালীন আচরণ বন্ধ করা যায় না, ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের সহযোগিতা, সহানুভূতি পাওয়া যায় না, সে পদে থাকার মানে হয় না।’ রাজনৈতিক মহলের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
এতেই থেমে থাকেননি কাকলি। আর জি কর কাণ্ড থেকে রেশন দুর্নীতি একাধিক ইস্যুতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানা করেছেন তিনি। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর লোকসভায় মুখ্য সচেতক বা চিফ হুইপের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। এরপর সমাজমাধ্যমে বিস্ফোরক পোস্ট করেন তিনি। শুধু তাই নয়, আইপ্যাক-সহ দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও সরব হয়ে বারাসত জেলা সভাপতির পদ ছাড়ার ঘোষণা করেছিলেন কাকলি। তারপর থেকেই তাঁকে ঘিরে দলবদলের জল্পনা শুরু হয়।
এর মধ্যেই মঙ্গলবার কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেওয়ায় সেই জল্পনা আরও জোরদার হয়। যদিও এ বিষয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের বক্তব্য ছিল, ‘এটা প্রশাসনিক বৈঠক। আমন্ত্রণ পাওয়ায় এসেছি।’ আর তার পরদিন, বুধবার দলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফার ঘোষণা করেন তিনি। তবে তিনি যে এখনই দল ছাড়ছেন না, তা সুব্রত বক্সিকে লেখা চিঠিতেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার।



