রাজ্য

গ্রেপ্তারি চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে সুজিত বসু! ‘এখনই কোনও রিলিফ নয়’, স্পষ্ট জানিয়ে দিল আদালত

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

গ্রেপ্তারি চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে সুজিত বসু! ‘এখনই কোনও রিলিফ নয়’, স্পষ্ট জানিয়ে দিল আদালত - West Bengal News 24

কলকাতা হাই কোর্টে ইডির গ্রেপ্তারির বিরুদ্ধে মামলা করেও তাৎক্ষণিক স্বস্তি পেলেন না রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু (Sujit Bose)। বর্তমানে তিনি জেল হেফাজতে রয়েছেন। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিরুদ্ধে দায়ের করা তাঁর মামলার শুনানি শুক্রবার বিচারপতি শম্পা দত্ত পালের গ্রীষ্মকালীন অবকাশকালীন বেঞ্চে ওঠে। শুনানির সময় বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “এখনই কোনও রিলিফ নয়!”

এদিন সুজিত বসুর পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী সিদ্ধার্থ লুথরা। শুনানিতে তিনি বলেন, “আমার মক্কেল গ্রেপ্তারিকে চ্যালেঞ্জ করছে। তিনি অভিযুক্ত নন।” তবে সেই আর্জিতে সাড়া দেয়নি আদালত।

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুজিত বসুকে গ্রেপ্তার করে ইডি। বর্তমানে তিনি জেল হেফাজতে রয়েছেন। সেই গ্রেপ্তারির বৈধতা নিয়ে বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। মামলাটি বিচারপতি শম্পা দত্ত পালের এজলাসে ওঠার সম্ভাবনার কথা আগেই জানা গিয়েছিল এবং দ্রুত শুনানির আবেদনও জানানো হয়েছিল।

আরও পড়ুন :: লেভেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা কমাতে বড় উদ্যোগ, রাজ্যজুড়ে শতাধিক আন্ডার ও ওভার ব্রিজ চালু পূর্ব রেলের

শুক্রবার মামলার শুনানিতে সুজিত বসুর আইনজীবী ফের আদালতে দাবি করেন, “আমার মক্কেল গ্রেপ্তারিকে চ্যালেঞ্জ করছে। তিনি অভিযুক্ত নন।” তবে আদালত কোনও অন্তর্বর্তী স্বস্তি দেয়নি। বিচারপতি নির্দেশ দেন, মামলাটির শুনানি নিয়মিত বেঞ্চেই হবে। পাশাপাশি গ্রেপ্তারি সংক্রান্ত বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে ইডিকে। সুজিত বসুর পক্ষ থেকেও হলফনামা দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘদিন ধরেই তদন্তকারীদের নজরে ছিলেন সুজিত বসু। অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে এবং সেই মামলার তদন্তে তাঁর ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছিল। গত ৬ এপ্রিল মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিন থেকে শুরু করে বিধানসভা নির্বাচনের বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁকে একাধিকবার হাজিরার নোটিস পাঠায় ইডি।

তখন নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত থাকার কথা জানিয়ে তিনি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ভোট চলাকালীন তাঁকে হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্বাচন পর্ব শেষ হওয়ার পর তদন্তে সহযোগিতা করতে হাজিরা দেন তিনি। একাধিক দফায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পাশাপাশি তাঁর বাড়ি ও অফিসেও তল্লাশি চালানো হয়।

এরপর গত ১১ মে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর সুজিত বসুকে গ্রেপ্তার করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। বর্তমানে তিনি জেল হেফাজতে রয়েছেন। তদন্তকারীদের দাবি, দমদম পুরসভায় শতাধিক চাকরিপ্রার্থীর নাম বেআইনিভাবে সুপারিশ করেছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী। পাশাপাশি এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। সেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সুজিত বসুর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট-সহ বিভিন্ন আর্থিক নথিপত্র খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

আরও পড়ুন ::

Back to top button