জানা-অজানা

প্লেবয় প্রাসাদের গোপন কথা ফাঁস : ছিল যৌনতার স্বর্গরাজ্য!

Secrets of the Playboy palace : প্লেবয় প্রাসাদের গোপন কথা ফাঁস : ছিল যৌনতার স্বর্গরাজ্য! - West Bengal News 24

প্লেবয় ম্যানসন। প্লেবয় পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা হিউ হেফনারের বিলাসবহুল প্রাসাদ। ১৯৭৪ সাল থেকে ২০১৭ সালে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার লস এঞ্জেলেসের ওই প্রাসাদেই থাকতেন হেফনার। সেই প্রাসাদের গোপন কথা এবার প্রকাশ্যে আনলেন এক মডেল এবং সাবেক পর্ন তারকা।

লাস ভেগাসের নেভাদার বাসিন্দা কাইলা কায়ডেন এখন বড়দের ওয়েবসাইটে মডেল হিসাবে কাজ করলেও অতীতে তিনি পা রেখেছিলেন নীল ছবির দুনিয়ায়। সেই সময়েই কাইলার ঠাঁই হয়েছিল হেফনারের বিখ্যাত প্রাসাদে। আর সেখানে থাকার সময় তাকে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল বলেই দাবি করেছেন তিনি।

কাইলার দাবি, হেফনারের প্রাসাদে কোনও নারী যদি সঙ্গম করতে রাজি না হতেন, তা হলে তাদের ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে বলা হত। কাইলা জানিয়েছেন, ছোট থেকেই তার মডেল হওয়ার শখ ছিল। এক দিন তিনি প্লেবয় পত্রিকার মডেলদের দলে নাম লেখাবেন, এই স্বপ্নও বহু দিনের। ২০১৪ সালে নীল ছবির জগতে প্রবেশ করেন কাইলা। তার আগে কাইলা তার বেশ কিছু যৌন উত্তেজনা ছড়ানো ভিডিও ক্লিপ বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেন।

কাইলার বয়স যখন মাত্র ১৮, তখনই প্লেবয়-এর হয়ে কাজ করার জন্য অডিশন দেন তিনি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তাকে ওই কাজের জন্য নেওয়া হয়নি। দৃঢ়প্রতিজ্ঞ কাইলা এক বছর পরে আবার চেষ্টা করেছিলেন এবং নির্বাচকদের মন জয়ে করে নেন। হেফনারের প্রাসাদে অতিথি হওয়ার আগে প্লেবয়ের টিভি শো এবং পত্রিকার মুখ হওয়ার জন্য বাছাই করা হয় কাইলাকে।

কিন্তু কাইলার কোনও ধারণাই ছিল না যে, হেফানারের ওই প্রাসাদে ঢুকলে তার অবস্থা কী হতে পারে। কাইলার দাবি, হেফনারের প্রাসাদে এক বিশেষ আমোদসভার আয়োজন করা হত। সেখানের নিরাপত্তারক্ষীদের হেফনারের কড়া নির্দেশ ছিল, কোনও নারী যদি কথা না শোনেন, তা হলে যেন তাকে সঙ্গে সঙ্গে ঘর থেকে বার করে দেওয়া হয়।

কাইলার কথায়, হেফনার এক বার অন্য এক মহিলাকে জনসমক্ষে এমন কাজ করতে বলেছিলেন, যাতে ওই নারী রাজি ছিলেন না। ফলে হেফনার তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি এই নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল, কোনও দিন যেন ওই মহিলাকে প্লেবয় ম্যানসনে ঢুকতে না দেওয়া হয়। পাশাপাশি ওই নারী যাতে হলিউডে কাজ না পান, সেই ব্যবস্থা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।

কাইলা আরও দাবি করেন, হেফনারের ২৯ কামরার প্রাসাদের চারপাশে প্রচুর লুকানো ক্যামেরা ছিল। ওখানে অতিথিদের করা প্রতিটি শব্দ এবং পদক্ষেপের কথা হেফনারের কান অবধি পৌঁছে দিতেন রক্ষীরা।

কাইলা জানিয়েছেন, প্লেবয় ম্যানসন থেকে যে সব নারীকে বের করে দেওয়া হত, তাদের ‘ব্যাড বানি’ বলা হত। প্রাসাদের যে সব মহিলা ধূমপান করতেন না এবং পুরুষ সঙ্গীদের খুশি রাখতেন, তাদের বলা হত ‘গুড বানি’।

তিনি আরও দাবি করেছেন, হেফনারের তারকা বন্ধুর সংখ্যা নেহাত কম ছিল না। তার প্রাসাদের বান্ধবীরা সেই তারকা বন্ধুদের ‘খুশি’ করতে পারছেন কি না, সে দিকেও বিশেষ নজর থাকত হেফনারের।

কাইলা জানিয়েছেন, প্রাসাদে প্রায়ই এমন পার্টি হত, যেখানে নারীরা গায়ে রং মেখে নগ্ন হয়ে পার্টিতে আসতেন। অনেক নারীই পেশাদার জীবনের সাফল্যে পেতে প্রাসাদের উপরতলার নির্দেশ চুপচাপ মেনে নিতেন। অনেকে মেনে নিতে না পেরে নিজে থেকেই বেরিয়ে যেতেন। তবে বেশির ভাগকেই তাড়িয়ে দেওয়া হত বলে জানিয়েছেন কাইলা।

কাইলার বক্তব্য, প্রাসাদের যত্রতত্র যৌন মিলনে লিপ্ত হতেন হেফনারের অতিথিরা। এমনকি, প্রাসাদের পুলের কাছেও অতিথিদের সঙ্গম করতে দেখেছেন বলে কাইলার দাবি।

কাইলা উল্লেখ করেছেন, অনেক মডেল হেফনারের প্রাসাদে এই আশায় আসতেন যে, কোনও ধনী অতিথিকে বিয়ে করে বাকি জীবন আনন্দে কাটাবেন। কিন্তু বেশির ভাগ মডেলকেই সহ্য করতে হত যৌন এবং মানসিক নির্যাতন। কাইলাও ভেবেছিলেন যে, তিনি এক জন ধনী অতিথিকে বিয়ে করে বাকি জীবন সুখে কাটাবেন। কিন্তু তিনি নিজের মনের মতো কাউকে খুঁজে পাননি।

কাইলার দাবি, তিনি ১৮ থেকে ২৩ বছর বয়স পর্যন্ত প্লেবয় পত্রিকার হয়ে কাজ করেন। ২০১৮-তে তিনি একটি ওয়েবসাইটে যোগ দিয়ে মডেল হিসাবে নিজের মতো আয় করা শুরু করেন। কাইলা জানিয়েছেন এখন তিনি মাসে প্রায় ৪০-৫০ লাখ টাকা করে আয় করেন, যা তার প্লেবয়ে কাজ করার সময়ের আয়ের থেকে অনেক বেশি।

হেফনার ১৯৫৯ সালে শিকাগোর গোল্ড কোস্টে আসল ‘প্লেবয় ম্যানসন’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ১৯৫৩ সালে তিনি শিকাগোতে ‘প্লেবয়’ পত্রিকা শুরু করেন। ক্যালিফোর্নিয়ায় চলে যাওয়ার পর, তার শিকাগোর প্রাসাদ ‘স্কুল অফ দ্য আর্ট ইনস্টিটিউট’কে ভাড়া দিয়ে দেন। পরে তিনি ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেই দান করে দেন প্লেবয় ম্যানসন।

ক্যালিফোর্নিয়ায় গিয়ে প্লেবয়ের মডেল তথা অভিনেত্রী সঙ্গী বার্বি বেনটনের কথায় নতুন প্রাসাদটি তৈরি করেছিলেন হেফনার। ২০১৭ সালে হেফনারের মৃত্যুর পর প্রকাশ্যে আসে, তাঁর জীবদ্দশায় ওই প্রাসাদে রমরমিয়ে চলত মাদকের ব্যবহার। উদ্দাম যৌনতায় মাততেন সেই প্রাসাদের অতিথিরা।

বর্তমানে হেফনারের ক্যালিফোর্নিয়ার ওই প্রাসাদের মালিক বিনিয়োগকারী ধনকুবের ডিন মেট্রোপোলোসের ছেলে ড্যারেন মেট্রোপোলোস। ওই প্রাসাদ এখন বিভিন্ন ব্যবসায়িক কাজে ভাড়া দেওয়া হয়। বিভিন্ন টেলিভিশন শোয়ের শুটিং, ছবি তোলা এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্যও ওই কুখ্যাত ওই প্রাসাদ ভাড়া দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন ::

Back to top button