‘বন্দে মাতরম’-এর আগে তামিল সঙ্গীত, বিধানসভায় প্রস্তাব পাশ, কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাতের পথে বিজয়
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

সরকারি অনুষ্ঠানের সূচনায় জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার বিষয়ে কেন্দ্রের নির্দেশিকা থাকলেও তা মানল না তামিলনাড়ু। সোমবার রাজ্য বিধানসভায় একটি প্রস্তাব পাশ করে সরকারি অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘তামিল থাই ভাজথু’ গাওয়াকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী থলপতি বিজয় স্পষ্ট করে দিলেন, ভাষা ও সংস্কৃতির প্রশ্নে তামিল জাতীয়তাবাদকেই অগ্রাধিকার দিতে চলেছে তাঁর সরকার।
বিধানসভায় প্রস্তাবটি পেশ করার সময় বিজয় জানান, রাজ্যের নিজস্ব গানকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দেওয়া প্রয়োজন। এই প্রস্তাবের পক্ষে বিরোধী দল ডিএমকে এবং এআইডিএমকেও সমর্থন জানিয়েছে। বিধানসভার স্পিকার জেসিডি প্রভাকর জানিয়েছেন, প্রস্তাবটি ইতিমধ্যেই অনুমোদিত হয়েছে এবং কার্যকর করার ক্ষেত্রে নতুন করে কোনও অনুমতির প্রয়োজন হবে না।
ভাষা ও সংস্কৃতির বিষয়ে রাজ্য কোনও আপস করবে না বলেও বিধানসভায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন বিজয়। তিনি বলেন, “তামিল শুধু একটি ভাষা নয়, আমাদের জীবনরেখা ও আবেগও।” একইসঙ্গে মাতৃভাষার মর্যাদাকে মাতৃত্বের পবিত্রতার সঙ্গে তুলনা করেন তিনি।
আরও পড়ুন :: নেতাজির আদর্শকে সামনে রেখে ‘আজাদ হিন্দ পার্টি’, জেন জি-কে মূল শক্তি, মেন্টর হতে পারেন প্রপৌত্র চন্দ্র বসু
নিজের বক্তব্যে তামিল ভাষার গুরুত্ব আরও জোর দিয়ে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। বিজয় বলেন, “তামিল মানেই গর্ব, তামিল মানেই শক্তি। ‘তামিল’ শব্দটি উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে সমগ্র তামিলনাড়ু ঐক্যবদ্ধ হয়। তামিলনাড়ুতে ‘তামিল থাই ভাজ্থু’-কে অবশ্যই সর্বোচ্চ স্থান দিতে হবে। ‘তামিল থাই ভাজ্থু’-কে প্রথম স্থান দেওয়া আমাদের অধিকার।”
বিধানসভার এই সিদ্ধান্তের ফলে কেন্দ্র ও তামিলনাড়ু সরকারের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পাশ হওয়া প্রস্তাব অনুযায়ী, রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি দপ্তর এবং সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত সংস্থায় আয়োজিত সরকারি অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এর পরিবর্তে প্রথমে গাওয়া হবে ‘তামিল থাই ভাজ্থু’।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের জানুয়ারিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল। সেখানে সরকারি অনুষ্ঠানের সূচনায় প্রথমে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ এবং তার পরে জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণ মন’ বাজানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর রাজ্য গানের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকায় রাজ্যগুলিকে তা “কঠোরভাবে মেনে চলার” নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।
তবে তামিলনাড়ু বিধানসভায় সোমবারের প্রস্তাব পাশের পর কেন্দ্রের সেই নির্দেশিকার সঙ্গে কার্যত সরাসরি বিরোধ তৈরি হল। এখন এই সিদ্ধান্তের পর কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে কী পদক্ষেপ করা হয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।



