ইথানলের ধাক্কায় চিনির বাজারে আগুন! উৎসবের আগে ব্যবসায়ীদের জন্য কড়া ফতোয়া কেন্দ্রের
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

বিদেশ থেকে চিনি আমদানির পরিকল্পনার পাশাপাশি দেশের বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে চলেছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। সামনে উৎসবের মরশুম। সেই সময়ে যাতে চিনির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে না যায়, তা নিশ্চিত করতেই মজুতদারির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিতে চলেছে কেন্দ্র। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, বড় চিনি ব্যবসায়ী এবং মজুতদাররা কোনওভাবেই ১৫ দিনের বেশি গুদামে চিনি মজুত করে রাখতে পারবেন না।
কেন্দ্রের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যে সমস্ত ব্যবসায়ী প্রতি মাসে ১০ মেট্রিক টনের বেশি চিনি কেনাবেচা করেন, তাঁদের ১৫ দিনের মধ্যে গুদামে থাকা সমস্ত চিনি বাজারে ছাড়তে হবে। এই নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা দেখতে প্রতি ১৫ দিন অন্তর অভিযান চালাবে সরকারি সংস্থাগুলি। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই বিধিনিষেধ কার্যকর হবে। উৎসবের মরশুম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, অর্থাৎ ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এই নিয়ম বহাল থাকবে।
আরও পড়ুন :: ‘যাদবপুরে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হবে!’ ক্যাম্পাসে ছাত্র সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের পর দিলীপ ঘোষের চরম হুঁশিয়ারি
এর আগে সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছিল, দেশের বাজারে চিনির ঘাটতি সামাল দিতে সরকার প্রায় নজিরবিহীন পদক্ষেপ করতে পারে। প্রায় এক দশক পর ভারত ফের বিদেশ থেকে চিনি আমদানি করার পথে হাঁটতে পারে। বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এতদিন চিনি উৎপাদনে ভারত শুধু স্বনির্ভরই ছিল না, বরং প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ চিনি বিদেশেও রপ্তানি করত। কিন্তু চলতি বছরে ইথানল উৎপাদনের জন্য আখের ব্যবহারে ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের বাজারে চিনির ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ চিনি আমদানির বিষয়টি বিবেচনা করতে হচ্ছে কেন্দ্রকে।
বিশ্বের মধ্যে চিনির চাহিদা সবচেয়ে বেশি ভারতের বাজারেই। তার উপর সামনে রয়েছে উৎসবের মরশুম। দুর্গাপুজো, দিওয়ালির মতো বড় উৎসব ঘিরে চিনির চাহিদা আরও কয়েকগুণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এখন থেকেই বাজার নিয়ন্ত্রণে না আনা গেলে আগামী দিনে চিনির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে। চিনির দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে একাধিক খাদ্যপণ্যের উপর। মিষ্টি ব্যবসায়ীরাও সমস্যার মুখে পড়তে পারেন। সব মিলিয়ে দেশের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
চলতি বছরে চিনির দাম বাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে আগেই আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। অনিয়মিত বর্ষার কারণে আখের উৎপাদনও কিছুটা কমেছে। তার সঙ্গে নতুন করে সমস্যা বাড়িয়েছে ইথানল তৈরির কারখানাগুলিতে আখের চাহিদা বৃদ্ধি। দেশে ইথানলের জোগান বাড়ানোর লক্ষ্যে গত কয়েক বছরে কেন্দ্রের তরফে ইথানল উৎপাদনকারী কারখানা বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ইথানল উৎপাদনে প্রায় ৩০-৩৫ শতাংশ আখের রস প্রয়োজন হয়। বিপুল চাহিদা মেটাতে ইথানল কারখানাগুলি কৃষকদের কাছ থেকে তুলনামূলক বেশি দামে আখ কিনছে। এর ফলে বর্তমানে চিনি মিলগুলিতে আখের জোগান কমে যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই কমছে চিনি উৎপাদনও। অন্যদিকে বাজারে চিনির চাহিদা যথেষ্ট থাকায় জোগান ও চাহিদার মধ্যে তৈরি হচ্ছে বড় ফারাক। আর তারই প্রভাব পড়ছে চিনির দামে।



