বিচিত্রতা

অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীর সঙ্গে শিক্ষিকার যৌন সম্পর্ক, অতঃপর…

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

Jocelyn Sanroman case : অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীর সঙ্গে শিক্ষিকার যৌন সম্পর্ক, অতঃপর… - West Bengal News 24
যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রিপারেটরি স্কুলের শিক্ষিকা তার বাসায় টিউশন পড়ানোর সময় এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন

শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পবিত্র সম্পর্ককে কলঙ্কিত করার এক চরম দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের এক শিক্ষিকা। নিজের অপ্রাপ্তবয়স্ক ছাত্রের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন এবং সেই দৃশ্যের ভিডিও ধারণ করার অপরাধে শেষ পর্যন্ত শ্রীঘরে যেতে হলো ২৭ বছর বয়সী জোসেলিন স্যানরোমানকে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় আদালত তাকে ৪ থেকে ১৫ বছরের দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড প্রদান করেছে।

ঘটনাটি ২০২৩ সালের, যখন জোসেলিন ওকসাইড প্রেপ একাডেমিতে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওয়াটারফোর্ড টাউনশিপ এলাকায় নিজের বাসায় ওই ছাত্রকে টিউশন পড়ানোর সময় তিনি তার সঙ্গে অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তবে বিষয়টি কেবল সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; জোসেলিন পুরো ঘটনাটি ভিডিও করেন, যা আইনত এবং নৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়েছে।

আরও পড়ুন :: বিয়ের আগেই বাসর রাত, বিছানায় সুখ পেলেই কেবল বিয়ে হয় যেখানে

অপরাধ করে পার পাওয়া যে কঠিন, তা আবারও প্রমাণিত হলো। জোসেলিন নিজেই তার এক সহকর্মীর কাছে এই সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছিলেন। ওই সহকর্মী বিষয়টি গোপন না রেখে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে অবহিত করেন। এরপরই তদন্ত শুরু হয় এবং পুলিশ জোসেলিনকে গ্রেপ্তার করে। গত মার্চ মাসে আদালতে তিনি নিজের অপরাধ (Third-degree Criminal Sexual Conduct) স্বীকার করে নেন।

মামলার শুনানিতে ওকল্যান্ড কাউন্টির বিচারক চেরিল ম্যাথিউস তীব্র বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। রায় প্রদানের সময় তিনি বলেন: “একজন অপ্রাপ্তবয়স্ককে এভাবে ব্যবহার করা এবং সেই ঘটনার ভিডিও করা অত্যন্ত ঘৃণ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ। তুমি তার নিরাপদ আশ্রয়ে গিয়ে এই কাজ করেছ, যা ক্ষমার অযোগ্য।”

বিচারক যখন তাকে প্রশ্ন করেন, “তুমি কী ভেবেছিলে?”, তখন বিমর্ষ জোসেলিন কেবল এটুকুই বলেন যে, এটি তার জীবনের একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।

আদালতে জোসেলিনের আইনজীবী দাবি করেন যে, স্যানরোমান দীর্ঘদিন ধরে কিছু মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন, যা তার সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করেছে। আইনজীবী জানান, জোসেলিন এখন নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন এবং নিজেকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। তবে আদালত এই যুক্তিকে অপরাধের ভয়াবহতার তুলনায় নগণ্য বলে মনে করেছে।

ওকল্যান্ড কাউন্টির প্রসিকিউটর ক্যারেন ম্যাকডোনাল্ড এই ঘটনাকে “বিশ্বাসের চরম লঙ্ঘন” বলে অভিহিত করেছেন। শুনানির সময় ভুক্তভোগী ছাত্রের মায়ের একটি আবেগঘন বিবৃতি পাঠ করা হয়। তিনি জানান, এই ঘটনার পর থেকে তার ছেলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং প্রচণ্ড অস্থিরতায় (Nervousness) ভুগছে।

প্রসিকিউটর ম্যাকডোনাল্ড সেই সহকর্মীর বিশেষ প্রশংসা করেছেন যিনি বিষয়টি সামনে এনেছেন। তার সময়োচিত পদক্ষেপের কারণেই অন্য শিক্ষার্থীরা এমন লালসার শিকার হওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন ::

Back to top button